খ্রিষ্টীয় বছরের শেষদিন, অর্থাৎ থার্টি ফার্স্ট নাইট উৎযাপনে নানারকম দুর্ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে গত কয়েক বছরে। তা এড়াতে রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

নিরাপত্তায় থাকছে পোশাকধারী র‌্যাব-পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিপুল সংখ্যক গোয়েন্দা সদস্য। টহল ও তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ ও র‌্যাবের পাশাপাশি মাঠে রয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। হাই-অ্যালার্টে আছে ফায়ার সার্ভিসও।

২০২৫ সাল বরণ করতে এবার যেন সেসবের পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেজন্য কঠোর অবস্থানে সরকার। আগেই ঢাকায় ফানুস ওড়ানো এবং পটকা ফোটানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে ডিএমপি। এরপর সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোকের তিন দিন অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত একই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

ঢাকাজুড়ে টহল ও তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এমআরটি পুলিশ জানিয়েছে, বাড়তি সতর্কতা হিসেবে ফানুস থেকে সৃষ্ট ঝুঁকি এড়াতে মেট্রোরেলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। লাইন পরিষ্কার রাখার জন্য একটি টিম কাজ করবে।

ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, থার্টি ফার্স্ট নাইটে আতশবাজি, ফানুস ও বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অগ্নিদুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঝুঁকি এড়াতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সন্দেহজনক কোনও কিছু দেখলে স্থানীয় থানায় জানাতে বলা হয়েছে।

এবিষয়ে পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “থার্টি ফার্স্ট নাইট ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সারা দেশে পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন ইউনিটকে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

ডিএমপির উপ-কমিশনার (মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশন্স) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে।

ডিএনসির সহকারী পরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুল হালিম রাজ বলেন, “থার্টি ফার্স্ট নাইটকে কেন্দ্র করে দেশের সব বার ও ক্লাবে বিশেষ নজরদারি থাকবে। পারমিট ছাড়া মদ্যপান বা বিক্রি করা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক পরিবহন ও সেবন রোধে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে, সন্দেহভাজন যানবাহন ও ব্যক্তিদের তল্লাশি করা হবে। সামাজিক মাধ্যমেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।”

এমআরটি পুলিশের ডিআইজি সিদ্দিকি তানজিলুর রহমান বলেন, “ফানুস ওড়ানো নিষিদ্ধ থাকলেও কিছু মানুষ তা অমান্য করে। এজন্য আমরা অতিরিক্ত সতর্ক রয়েছি। স্টেশন পাহারায় অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। লাইন পরিষ্কার রাখার জন্য একটি টিম কাজ করবে।”

ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজাহান শিকদার বলেন, “ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ফানুস ওড়ানোর কারণে অগ্নি দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। তাই ফানুস ওড়ানোকে নিরুৎসাহিত করা প্রয়োজন।”